ফুল কপি ও বাধা কপির চাষ হচ্ছে মেহেরপুরে

মেহেরপুরে আগাম বাঁধা কপি ও ফুল কপি  চাষ করে শত শত বেকার যুবক তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে আগাম কপি চাষ। এ বছর আগাম জাতের বাঁধা কপি ও ফুল কপি চাষে লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন সবজি চাষে বিখ্যাত মেহেরপুরের সবজি চাষিরা।

জেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করবে বলে মনে করছেন চাষিরা।
মাটির উর্বরতা শক্তি ও আবহাওয়া সবজি চাষের জন্য উপযোগী হওয়াই মেহেরপুর জেলায় বছরের ১২ মাসই চাষ হয় বিভিন্ন জাতের বাঁধা কপি, ফুল কপিসহ নানা ধরনের সবজি। বেশ কয়েক বছর জেলার আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বিভিন্ন সবজি চাষে লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে এবার আবহওয়া অনকূলে থাকায় জেলার অনেক কৃষক আগাম বাঁধা কপি চাষ করছেন।
কৃষকরা জানান, এক সময় সাহারবাটির বালুময় জমিতে ধান-পাট ছাড়া অন্য ফসলের চাষ তেমন একটা হতো না। ২০ বছর আগে এ গ্রামে কপির চাষ শুরু হয়। লাভজনক আবাদ হিসেবে কপি চাষে আগ্রাহী হয়ে উঠেন এলাকার কৃষকরা। এরপর ৫/৬ বছর আগে থেকে এ এলাকার চাষিরা আগাম কপি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। নিজের অভিজ্ঞতায় চাষিরা এ চাষ শুরু করেন। আগাম কপি চাষ সাহারবাটি গ্রাম পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বিভিন্ন গ্রামে। এ চাষের মাধ্যমে কৃষকরা বেশ লাভবানও হচ্ছেন। এখানকার উৎপাদিত কপি জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
মেহেরপুর সদর উপজেলার বাধা শ্যামপুর গ্রামের বাঁধা কপি চাষি আব্দুল বারী জানান, প্রতি বছর তিনি বাঁধা কপিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করে থাকেন। এবার আবহওয়া অনুকূলে থাকায় বাঁধা কপির ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা এবার লাভবান হবেন বলে তিনি মনে করছেন।
গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের সবজি চাষি আওয়াল হোসেন বলেন, প্রতি বিঘা বাঁধা কপি ও ফুল কপি চাষ করতে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। কপি চাষ করতে খুব বেশি পরিশ্রমও করতে হয় না। তাই তিনি প্রতি বছর বাঁধা কপি চাষ করেন। এ বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে বাঁধা কপি চাষ করছেন। তার খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা মতো। এ বছর বাঁধা কপির ভালো ফলন হওয়ায় এ জমি থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা আয় হবে বলে মনে করেন।

আগাম কপি চাষি সোহেল আহামেদ জানান, তিনি এবার ২০ বিঘা জমিতে আগাম কপির চাষ করেছেন। এ চাষে তার বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায়। বিঘাপ্রতি জমিতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে।

একই এলাকার কপি চাষি তুহিন আলী বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেলে এ চাষে আরো উন্নতি ঘটানো সম্ভব। মেহেরপুরের বাঁধা কপি জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় জেলায় সরবরাহ করা হয়। বাজারে আগাম কপির চাহিদাও ভালো। আগাম কপি তোলার পর সে জমিতে আলুসহ অন্যান্য ফসলের চাষ হয়।

সাহারবাটি বীজ ভাণ্ডার পরিচালক প্রভাষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগাম চাষের জন্য স্বল্প মূল্যে ট্রপিক স্টার জাতের বাঁধা কপির ও ফুল কপি বীজ কৃষকদের মাঝে তিনি সরবারহ করেন। এবারও তার প্রতিষ্ঠান কৃষকদের মাঝে এ বীজ সরবারহ করেছে। তিনি বলেন, বাঁধা কপি ও ফুল কপি শীতকালীন সবজি হিসেবে আবাদ করা হলেও মেহেরপুরে সারা বছরই চাষ হচ্ছে। কৃষকরা যাতে আরো সহজ উপায়ে ও স্বল্প খরচে কপির চাষ করতে পারে সে জন্য বেশি করে মাঠ দিবস করে কৃষকদের প্রশিক্ষিত করা হবে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. আখতারুজ্জামান জানান, এ বছর জেলার ৪০ হেক্টর জমিতে আগাম কপি চাষ হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও খরা না থাকলে এ সবজি চাষ করে আরো বেশি লাভবান হবে কৃষকরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও খরা মোকাবিলা করে ভবিষ্যতে আগাম কপি চাষ আরো ভালো যেন করতে পারে তার জন্য জেলার কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।



Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes