সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রিতে বিভিন্ন লাইসেন্স ও ছাড়পত্র নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও মেহেরপুরে তা মানা হচ্ছে না




দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। মেহেরপুর জেলায় এই গ্যাস এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হলেও মানুষ জানে না সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের নিয়মনীতি। জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে সিলিন্ডার বিক্রির দোকান। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি কাজে ব্যবহার্য সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রিতে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াও বিস্টেম্ফারক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু মানা হচ্ছে না কোনো নিয়মনীতি। কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ও লাইসেন্স ছাড়াই মেহেরপুরে ঝুঁকি নিয়ে চলছে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসা।

বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় ৬৫ থেকে ৭০টি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির দোকান থাকলেও সরকারি নিয়ম মেনে মাত্র ১৩ মালিক গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি লাইসেন্স ছাড়া একজন ব্যক্তি ১০০ কেজি অর্থাৎ ১২ কেজি ওজনের আটটি ও ২৩-২৪ কেজি ওজনের চারটি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার সংরক্ষণ করতে পারবেন। কিন্তু লাইসেন্স ছাড়াই অধিক সংখ্যক গ্যাস বিক্রেতা শত শত গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার সংরক্ষণ করে বিক্রি করছেন। ওইসব দোকানে নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সরকারি নিয়ম না মেনে ব্যবসা করা অন্যায়। অল্পদিনের ভেতরেই লাইন্সেসগুলো করে নেওয়া হবে। গাংনীর গ্যাস ব্যবসায়ী মহিবুল ও সিরাজ বলেন, আমাদের ট্রেড ও বিস্টেম্ফারক লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপনের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। মেহেরপুরের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, আবেদন করার পর সরকারের দপ্তর থেকে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে লাইসেন্স পাওয়া সহজ হতো। অনেকেই লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি জটিল মনে করে ঝামেলায় যেতে চান না।

মেহেরপুর পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষক আল মাহমুদ শুভ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জীবনহানির মতো দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গ্যাস ব্যবহারকারীদেরও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হওয়া আবশ্যক।

মেহেরপুরের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাস্টার জাহীদ হোসেন বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে হলে অবশ্যই ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র লাগবে। কিন্তু মেহেরপুরে দোকানিরা তা না নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকটি আবেদন জমা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ বলেন, বিস্টেম্ফারক লাইসেন্স ছাড়া এবং অনুমোদনহীন অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির বিরুদ্ধে শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকার রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পরিষদের পরিচালক এমএএস ইমন বলেন, যারা গ্যাস আইন বা এর ব্যবহার বোঝেন না, তাদের এই ব্যবসায় না আসাই ভালো। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসনকে অবৈধ গ্যাস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

খুলনা বিভাগীয় বিস্টেম্ফারক পরিদর্শক ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখতে হলে তাকে অবশ্যই বিস্টেম্ফারক লাইসেন্স নিতে হবে। যারা অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes