দাম ভালো পাওয়ায় করলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে মেহেরপুরের চাষিদের



মেহেরপুর জেলায় করলা চাষে বিপ্লব হয়েছে। এ বছর যেমন করলার ব্যাপক চাষ হয়েছে তেমন হয়েছে ফলন। দাম ভালো থাকায় সাধারণ কৃষকদের মাঝেও চাষে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে কম পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন করলা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। প্রতিদিন অন্তত ১০ ট্রাক করলা দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হচ্ছে।

 প্রান্তিক জনপদের ছোট-বড় করলা চাষীরা প্রতিদিন ভোরে এসব করলা বাজারজাতে স্থানীয় কাঁচা বাজারের পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে নিয়ে আসেন।

 জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় এ মৌসুমে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে করলার চাষ করা হয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে করলা চাষ করতে যেমন খরচ হচ্ছে সর্বোচ্চ বিশ হাজার টাকা। ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় লক্ষাধিক টাকার বেচাকেনা হচ্ছে।
সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের করলা চাষী আল আমীন হোসেন বলেন, গত বছর ২০ শতক জমিতে করলা চাষ করে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ১ লক্ষাধিক টাকা আয় করেছি।
এ বছরও জমি বাড়িয়ে ৪৫ শতক জমিতে চাষ করে ভালো টাকা পাচ্ছি। এ বছরও ৪০ হাজার টাকা খরচ করেছি এবং প্রায় ২ লাখ টাকা আয় হবে। একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে করলার পাশাপাশি বেগুন ও সিম চাষ করেছেন তিনি।

 সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি, কুতুবপুর, ঝাউবাড়িয়া, রঘুনাথপুর, পিরোজপুর, ফতেপুর, গোভিপুরসহ বিভিন্ন মাঠে করলা চাষ হচ্ছে।
কোনো চাষী সরাসরি মাঠে অথবা কোনো চাষী মাচা করে তার ওপর করলা চাষ করছেন। তবে মাচায় চাষ করলে খরচ একটু বেশি হলেও ফলন ও মান বেড়ে যায় বলে কৃষকরা জানান। মাত্র দেড় মাসে ফসল বিক্রি করতে পারায় তারা খুবই খুশি। মৌসুমের শুরুতে উৎপাদিত এ করলা প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়।

কৃষকরা জানান, এখন আমাদের দেখা দেখি এলাকার অনেকে করলা চাষ করছেন। কারণ হিসেবে তারা জানান, করলা চাষ করতে বাড়তি পরিশ্রম করা লাগে না। অল্প একটু সময় দিলেই এই চাষে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। তাই কৃষকরা করলা চাষের দিকে ঝুঁকেছে। আমঝুপি ইউনিয়নের করলা চাষী রফিকুল আলম জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছেন।
 খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত লক্ষাধিক টাকার বেচা কেনা হয়েছে। বর্তমান বাজারদর থাকলে আরো লক্ষাধিক টাকার বেচাকেনার আশা করছেন তিনি।

 মেহেরপুর শহরের বড় বাজার এলাকার আড়ত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রতিটা আড়ত ৩ থেকে ৪ ট্রাক করলা আসে। যা মেহেরপুরের বিভিন্ন খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। এ ছাড়াও প্রতিদিন সমপরিমাণ করলা ঢাকা, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হয়। তিনি বলেন, করলার বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা এ চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।

শহরের হোটেল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ কেজি করলা নিয়ে আসেন যা প্রায় সব বিক্রি হয়ে যায়। প্রতি কেজি করলা তিনি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় মানুষ জ্বরসহ বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে ভুগছে। তাই মানুষের রুচি নষ্ট হয়ে যায়। করলা ভাজি করে খেলে মুখের রুচি ফিরে আসে তাই খুচরা কাস্টমাররা সব সময় এই সবজি চান।

মেহেরপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, কৃষকরা অন্য যে কোনো চাষের সঙ্গে খুবই অল্প খরচে করলা চাষ করতে পারেন। তাই এ বছর কৃষকরা অনেকেই এ চাষ করছেন। তা ছাড়া বাড়তি কোনো ঝামেলা না থাকায় কৃষকরা খুব সহজেই এ চাষ করতে পারেন। আবার জেলার কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। তাই তারা এ আবাদ করতে পারছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এসএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বছর ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। উন্নত মানের হাইব্রিড জাতের করলা জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ ট্রাক ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হচ্ছে। প্রতিবছরই করলা চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।


তথ্যসূত্র: মানবকণ্ঠ


Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes