মেহেরপুর জেলখানা,এক আতঙ্কের নাম

মেহেরপুর জেলা কারাগারের অভ্যান্তরে কী অমানুষিকতা চলছে তা জেলের বাইরে অবস্থান করা কোন মানুষের পক্ষেই জানা বা বোঝা একবোরেই অসম্ভব। চার দেওয়ালের অভ্যান্তরে যা ঘটছে তা কয়েদীদের আত্মীয় স্বজনরা কিছুটা হয়তো অনুধাবন করতে পারছে কয়েদীদের মাধ্যমে। কিন্তু এই অনুধাবন করে লাভ কী? জেলের থাকা স্বজনদের এ করুণ অবস্থা জানতে পেরেই লাভ কী ? চার দেওয়ালের অভ্যান্তরে বন্দি তাদের বিষয়ে কিছুই করার নেই এদের। কারণ তারা সকলেই আইনের হাতে বন্দী এবং তারা সকলেই এই জেলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। চার দেওয়ালে বন্দী জীবনে আইনের হাতে বন্দি হয়ে প্রতিনিয়ত ডুকরে কাঁদছে জেলের কয়েদীরা। তাদের এ কান্না, তাদের এ বেদনা, তাদের এ কষ্ট দেখার কেউ নেই।

কারণ মেহেরপুর জেলা কারাগারের রক্ষক এখন ভক্ষকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। কারাগারের মহান স্লোগান, “রাখিব নিরাপদ,দেখাব আলোর পথ” মহান এই স্লোগান থেকে সরে গিয়ে দায়িত্ব কর্তব্য ভুলে তিনি এখন ব্যাস্ত রয়েছেন নিজের আখের গোছাতে। রক্ষকের এহেন আচরণ যেখানে মানবতা একেবারেই অন্ধ। সে চোখে দেখেনা, কানে শোনেনা। নিষ্ফল কান্না অভিশাপ হয়ে দায়ীত্বশীলদের প্রতিনিয়ত দুষে চলেছে। তাদের এ বুক ফাটা কান্নার আওয়াজ সমাজের নেতৃত্ব দানকারী উঁচু শ্রেনীর মানুষের কাছে পৌছেনা। মেহেরপুর জেলা কারাগারে বর্তমানে সাড়ে ৪শ’র বেশি কয়েদী রয়েছে। তার মধ্যে থেকে বেশির ভাগ কয়েদী পবিত্র মাহে রমজানের রোজা পালন করে থাকে। কিন্তু কিভাবে তারা রোজা পালন করছে তা কি কেউ খোঁজ রেখেছে? খবর রেখেছে কি কেউ কয়েদীরা রোজা পালন করছে কিভাবে? প্রতিদিন চার দেওয়ালের মধ্যে লাগানো কাটুয়া শাক দিয়ে রোজাদারদের রাতে আর সেহরীর খাবার খেতে হয়। শুধু এখানেই শেষ নয়। রান্নার এমনই দশা কাটুয়া শাকে থাকেনা লবণ, তেল বা মরিচ। কোন রকম আধা সিদ্ধ করে যে পাতিলে পরিবেশন করার জন্য আনা হয়, আবার সেই পাতিলে করেই ফিরে যায় ডাষ্টবিনে। মজার ব্যাপার হলো জেলার এনায়েত উল্লাহর কেরামতিতে একই কাটুয়া শাক বা ডাটার বিল ভাউচারে কখনও আলু, কখনও মিষ্টি কুমড়া, কখনও পটল ইত্যাদি দেশে উৎপাদিত সব ধরনের শব্জিতে রুপান্তরিত হয়। জেলের সর্বেোচ্চ আসনে বসে ভদ্রলোকের বেশে অনীয়মের স্বর্গরাজ্য গড়ে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছেন তিনি।

এমন খাবারের ব্যাপরে কয়েদীদের মধ্যে কেউ যদি মুখ খোলে তবে তার উপর নেমে আসে আদিম যুগের নির্যাতন। পবিত্র মাহে রমজান মাসে যেখানে কয়েদখানার রোজাদারদের প্রতি সহানুভুতি, সহমর্মিতা, ভদ্রতা প্রদর্শন করার কথা, সেখানে জেলার এনায়েতুল্লাহ্ তার সম্পূর্ণ বিপরীত মুখী অবস্থানে দাঁড়িয়ে নিজের আখের গোছানো নিয়ে ব্যাস্ত আছেন। তিনি টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেননা। ভুক্ত ভোগী আস্মীয় স্বজনদের প্রানের দাবি জেলার এনায়েতুল্লাহর দুর্নীতির বিরুদ্ধে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে কয়েদীদের মানবেতর জীবনের অবসান ঘটিয়ে সুষ্ঠু ভাবে রোজা পালন করার ব্যবস্থা গ্রহন করা একান্ত জরুরী বলে সচেতন মহলের জোর দাবি। মেহেরপুর জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে কি হচ্ছে বাহিরের কেও জানেনা। সেখানে আইনের নামে কয়েদীদের উপর চলে নানা ধরণের নির্যাতন। মেহেরপুরের জেলা কারাগারে কয়েদীদের খাবারে ব্যাপক অনীয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিদিন কয়েদীদের জেলের অভ্যন্তরে চাষ করা কাটুয়া শাক তরকারি হিসেবে দেওয়া হয় আর তালিকায় লেখা হয় আলু, পটল, কলা, উস্তে ঝিঙ্গে নানা ধরণের সব্জীর নাম। যা শুধু জেলারের খাতা কলমেই সিমাবদ্ধ থাকে। আর এ দিকে কয়েদীরা একই সব্জী খেতে খেতে খাবারের উপর অরুচি এসে গেছে বলে জানা যায়। একটি সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের তালিকায় জেলের ভিতরে চাষ করা কাটুয়া ডাটা দিয়ে ভাত খেতে দেয় যেটা রান্না করা হয় অত্যান্ত খারাপভাবে। এই সব্জিতে তেল লবণের বালাই থাকেনা। আর যে চাউলের ভাত দেওয়া হয় তা খাওয়ার অনুপযোগি। একজন মানুষের পক্ষে এ ধরণের রান্না খাওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাক্ষাত প্রার্থী, একজন কয়েদীর আত্মীয় জানান, তার ভাই তাকে জানিয়েছে জেলের ভিতরের খাবার খাওয়া অসম্ভব। যে খাবার জেলের ভিতরে দেওয়া হয় তা কুকুরকে দিলেও খাবেনা। এখানে তারা বাধ্য হয়ে এগুলো খায়। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে আরো কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বর্তমান মেহেরপুর জেলা কারাগারের দায়িত্বে থাকা জেলার মোঃ এনায়েতুল্লাহ আসার পর থেকে এ ধরণের অত্যাচারের পাশাাপাশি আরো অনিয়ম শুরু হয়েছে। জেলের খাবার না খেতে পেরে অনেকেই জেলের ভিতরের ক্যান্টিনের খাবার কিনে খেতে চাই। এখানেও বড় ধরনের অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। ক্যান্টিনে একটি ডিম কিনে খেতে হয় পনের টাকা দিয়ে যা বাজার মুল্য মাত্র সাত থেকে সাড়ে সাত টাকা তাও আবার ডীমের সাইজ অত্যান্ত ছোট, চিনির দাম বাইরের বাজারে কেজি প্রতি চল্লিশ থেকে পয়তাল্লিশ টাকা এই চিনি মেহেরপুর কারাগারে কয়েদীদের কিনতে হয় আশি টাকা করে কেজি দরে। একটি ছোট্ট আনারস যার দাম বাইরে বিশ টাকা আর কারাগারে এটা কিনতে হয় ষাট টাকা দিয়ে। ভারতীয় পিয়াজ বাজারে মুল্য পড়ে কেজি প্রতি মাত্র ত্রিশ টাকা আর জেলের ভিতরে এর ঝাঁজ বেড়ে গিয়ে মুল্য হয় কেজি প্রতি আশি টাকা। সেভ করার জন্য একটি রেজার ব্লেড যার দাম বাজারে মাত্র বারো থেকে পনের টাকা কারাগারের ভিতরে এটা ক্রয় করতে হয় ৪০ টাকা দিয়ে। এ ধরনের নানা অনিয়মের যাঁতাকলে পড়ে কয়েদীদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এ বিষয়ে জেলা কারাগারের জেলার মোঃ এনায়েতুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি প্রথমে আধা ঘন্টা অপেক্ষা করতে বলেন। আধা ঘন্টা অপেক্ষা করার পর তিনি সাংবাদিকদের সাথে আর কথাই বলতে চাননি এবং বলেন সাংবাদিকরা যা পরে আমার বিরুদ্ধে লিখতে পারে আমি পরোয়া করিনা।

এতটাই ক্ষমতাধারী এই জেলার এনায়েতুল্লাহ,তার বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মত কি কেউ নেই ।


Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes