অপূর্ব সৃষ্টি,মেহেরপুরের বাসুদেবের সাবিত্রি ও রসকদম্ব মিষ্টি

মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহী রসকদম্ব ও সাবিত্রী মিষ্টির কাহিনী
অন্য জাতির কথা যাই হোক না কেন বাঙালী জাতীর প্রিয় খাদ্য, প্রিয় স্বাদ হচ্ছে মিষ্টি । সেই আদিকাল থেকেই মিষ্টির প্রতি অজানা এক টান রয়েছে মিষ্টি পাগল বাঙালির। দেশীয় কারিগরদের  হাত ধরে এদেশে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের ব্যতিক্রমী মিষ্টির উদ্ভোবন হয়েছে। আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী সব মিষ্টি গুলির মধ্যে মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহী রসকদম্ব ও সাবিত্রী দুটি মিষ্টি  অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই মিষ্টি দুটি মেহেরপুর জেলার ১৫০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে এখনো সগৌরবে তার অবস্থানের কথা জানান দিয়ে যাচ্ছে। স্বাদে গন্ধে  অতুলনীয়, গুণে ও মানে অনন্য এই জনপদের মহান সৃষ্টি এই’  নীরস’ মিষ্টি দুটি নিয়ে  আমাদের আজকের আলোচনা।

সাবিত্রী ও রসকদম্ব বৃত্তান্ত

সাবিত্রী আর রসকদম্ব মিষ্টি দুটি এখন আর শুধু দেশেই নয় । এর  খ্যাতি দেশ  ছাড়িয়ে সুনাম অর্জন করেছে ইউরোপ মহাদেশ, উত্তর আমেরিকা সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ যেমন: সৌদিআরব, কুয়েত,আরব আমিরাত এবং সিঙ্গাপুর,মালয়েশিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
১৮৬১ সালে ব্রিটিশ রাজত্বকালে প্রাচীন শহর মেহেরপুরের আদি বাসিন্দা বাসুদেব প্রধান নিজে এই মিষ্টি উদ্ভাবন করেন। খড়, টালি ও টিন দিয়ে নির্মিত তাঁর বাড়ির একাংশ ছিল মিষ্টির দোকান। আজ সে স্থানটিতে নির্মিত দোতলা দালানের নিচতলায় ‘বাসুদেব গ্র্যান্ড সন্স’ নাম দিয়ে প্রয়াত বাসুদেবের দুই নাতি বিকাশ কুমার সাহা ও অনন্ত কুমার সাহা ১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টি দিয়ে আজও মানুষের রসনা সেবা করে যাচ্ছেন।


অবিভক্ত বাংলার এই অঞ্চলের জমিদার সুরেন বোসের জমিদার বাড়ির সিংহ ফটকের সামনেই ছিল বাসুদেবের সাবিত্রী আর রসকদম্বের দোকানের অবস্থান। জমিদার বাড়িতে মাঝেমধ্যেই আসতেন ব্রিটিশ রাজের অমাত্যবর্গ, রাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণ্যমান্য অতিথি ও অন্য অঞ্চলের জমিদাররা। সুরেন বোস বাসুদেবের সেই অতুলনীয় স্বাদের সাবিত্রী আর রসকদম্ব পরিবেশন করে আপ্যায়ন করতেন তাঁদের। আজও দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক ও দেশী- বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি মেহেরপুরে এলে তাঁদেরও আপ্যায়নের প্রধানতম মিষ্টান্ন হলো  এই সাবিত্রী আর রসকদম্ব।


এই মিষ্টির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ফ্রিজে না রেখে প্রায় ১৫ দিন  আর ফ্রিজে রাখলে  এক মাসেরও বেশি সময় এর স্বাদ বজায় থাকে।  দুধ তথা দুধের চাছি আর চিনিই মূলত এই মিষ্টি তৈরির উপকরণ। তবে মিষ্টি তৈরির সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে চুলায় জ্বাল দেওয়ার বিষয়টি।  নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী নির্ধারিত তাপে মিষ্টির চুলায় জ্বাল দিতে হয় এই মিষ্টি তৈরীতে । অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সুচারুভাবে জ্বাল দেওয়ার এই কাজটি করতে হয়। । 
কোথায় পাবেন এই মিষ্টি? 
মেহেরপুরের মহিলা কলেজ মোড় থেকে ৫০ মিটার দক্ষিণে অবস্থিত বাসুদেব গ্র্যান্ড সন্স । এই দোকানেই তৈরী ও বিক্রি হয় মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহি এই সাবিত্রি ও রসকদম্ব । দেশের আর কোথাও এর কোন বিক্রয় কেন্দ্র নাই ।যদি আপনি বেশি পরিমাণ মিষ্টি কিনতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই আগে থেকে অর্ডার দিতে হবে । কারণ এই মিষ্টি তৈরী হয় এক হাতে এবং পরিমাণেও অল্প । মিষ্টি তৈরীর মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শেষ হযে যায় এই মিষ্টি ।

Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes