মেহেরপুরে বাণিজ্যিকভাবে ধনেপাতার চাষ হচ্ছে


ধনেপাতার চাহিদা বেশি থাকায় গত দুই বছর থেকে মেহেরপুরের চাষিরা ব্যপকহারে চাষ শুরু করেছে ধনেপাতার। বাজার মূল্য ভালো পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে অনেক চাষি। চাহিদার তুলনায় আবাদ বেশি হওয়ায় চলতি বছর দেশের বিভিন্ন মোকামে ধনেপাতার কিছুটা দাম কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ধনেপাতা ব্যবসায়ীরা।


মেহেরপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, কয়েকবছর আগে গাংনী উপজেলার ঢেপা, পাকুরিয়া, যুগিন্দাসহ সদর ও মুজিবনগর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে ধনেপাতার আবাদ হতো স্বল্প পরিমাণে। বীজ বপন করা সহ ৪৫ দিনের এই আবাদে অধিক লাভবান হওয়ায় গত দুই বছর থেকে বারি-১ সহ স্থানীয় কয়েকটি জাতের ধনেপাতার চাষ শুরু করে চাষিরা। ২ বছর আগে মাত্র ৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয় ধনেপাতার। রমজান মাসে এর চাহিদা বেশি থাকায় চলতি বছর প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে এ পাতার। বিঘাপ্রতি ধনেপাতা চাষে খরচ হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। উৎপাদিত পাতা বাজারে বিক্রি করে চাষিদের আয় হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা।
মেহেরপুর গাংনী উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের ধনেপাতা ক্ষেতে কাজ করা খদেজা খাতুনের মতো আরো অনেক শ্রমিকেরা জানান, আষাঢ়, শ্রাবন মাসে কোন কাজ থাকে না, এই সময় ক্ষেতে কাজ করে শ্রমিকেদের সংসার ভালোই চলে। ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক এক সঙ্গে কাজ করেন।
মেহেরপুর গাংনী উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের ধনেপাতা চাষি রাফিকুল জানান, অল্প দিনের এই আবাদ লাভজনক হওয়ায় গত বছর এই চাষ করে অনেক চাষি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। চাহিদার তুলনায় আবাদ বেশি এবং বাজার দর কমে যাওয়ায় এখন চাষিরা কিছুটা লোকশান গুনছে। রমজান মাসে এই পাতার চাহিদা থাকে অনেক বেশি, লাভের আশায় চাষিরা গত বছরের তুলনায় এবছর অনেক বেশি ধনে পাতার চাষ করেছে।
মেহেরপুরে ধনেপাতা কিনতে আসা কুষ্টিয়া জেলার ধনেপাতা ব্যবসায়ী হাসেম আলী জানান, রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই পাতার চাহিদা অনেক বেশি থাকে, এ জেলার চাষিরা এ বছর প্রচুর ধনে পাতার চাষ করেছে। এই পাতা ঢাকা, বরিশাল, সিলেট সহ বিভিন্ন মোকামে বিক্রি হয়।
মেহেরপুর গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন জানান, ধনে পাতা সরাসরি ভোক্তারা খাওয়ার কারণে কৃষকদের বিষ মুক্ত রাখার পাশাপাশি খড় দিয়ে পাতা মালচিং করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে চাষিদের।

Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes