মেহেরপুর পাপিয়া পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরিক্ষায় পাশ করেছেন



তার দুই হাত অকেজো। কাজ চলে পা দিয়ে। দারিদ্র্যতা গোটা পরিবারকে গ্রাস করলেও ববিতা আখতার পাপিয়াকে দমাতে পারেনি। ইচ্ছা শক্তির বলে এসএসসি পরীক্ষায় সফল তিনি।

মেহেরপুর সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ববিতা আকতার পাপিয়া।

পরীক্ষায় সে জিপিএ ২.৫০ পয়েন্ট অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। জন্ম থেকে দুই হাতে কোনো শক্তি না পাওয়ায় পা দিয়েই লেখাপড়াসহ সব কাজ চালাতে হয় পাপিয়াকে।

এর আগে পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় এ গ্রেড পেয়ে পাস করে সে।

তার ইচ্ছা সমাজের আর পাঁচটা মেয়ের মতো উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। শিক্ষিকা হয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদান করার ইচ্ছা তার।

পাপিয়া জানায়, পাসের খবর জানার পর আনন্দে হাসবো না কাঁদবো বুঝে উঠতে পেরেছিলাম না। আমি কলেজে ভর্তি হব, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হব।

পাপিয়ার মা আরিফা খাতুন জানান, অনেক কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করাতে হচ্ছে। তারও হাত অকেজো হওয়ার কারণে অনেক কষ্ট হয়। আমার মেয়েকে যেন সমাজে অবহেলায় কাটাতে না হয় সেজন্য সে যতদুর পারবে তাকে লেখাপড়া করাবো।

পাপিয়ার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, তার চিন্তা এখন কি করে বোনের স্বপ্ন পূরণ করবেন।

তিনি জানান, ২০০৮ সালে প্রতিবন্ধীর সার্টিফিকেট চেয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করেও কোনো সাড়া মেলেনি। তাকে বই-খাতা কিনে দেয়ার মতো অর্থ তাদের নেই। ফলে যেকোনো সময় তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পাপিয়ার অদম্য ইচ্ছা পূরণে তার সহপাঠীরা বইসহ পোশাক পরানো, নোট সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে বিগত দিনে। সহপাঠীদের বিশ্বাস পাপিয়া একদিন অনেক বড় হবে। মানুষ গড়ার কারিগর হবে। পাপিয়া প্রতিবন্ধী হলেও তার মেধা প্রখর।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তুহিন রেজান জানান, আমাদের বিশ্বাস ছিল ববিতা পাস করবে। সে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। তার অদম্য ইচ্ছাই আজ তার এ সাফল্য।

Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes