মেহেরপুরের রাজিব, একজন ছবি ওয়ালার মহান কীর্তি কাহিনী





মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের মৃত আবদুুল বারির একমাত্র ছেলে জাহিদ হাসান রাজীব। মনের খেয়ালকে প্রাধান্য দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন তিনি।


সারা বিশ্বের প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের বিভিন্ন স্মরণীয় ও বরণীয় ব্যক্তির আলোকচিত্রের সমাহারে ব্যক্তি উদ্যোগে ছবির জাদুঘর গড়ে তুলেছেন জাহিদ হাসান রাজীব। নাম দিয়েছেন ছবিতলা। কাঙাল হরিনাথ থেকে শুরু করে প্রথম বিশ্বসুন্দরী ইসরাইলের কিউকি হ্যাকসন, গণতন্ত্রের প্রবক্তা যুক্তরাস্ট্রের বরেণ্য প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন, ইতিহাস কাঁপানো জার্মান একনায়ক এডলফ হিটলার,মানবতার জন্যে জীবন উৎসর্গকারী আলবেনিয়ায় জন্মগ্রহনকারী কিন্তু সারা জীবন ভারতে সেবাদানকারী মহামানবী মাদার তেরেসা,বাংলা ভাষা এবং বাঙ্গালী জাতিকে প্রথমবার বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াবার এবং নিজের পরিচয় তুলে ধরার কারিগর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবিতার মাধ্যমে বৃটিশ শক্তিকে নড়িয়ে দেবার অসম্ভব লেখনীর স্রস্টা, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী অহিংস আন্দোলন, লবণ আন্দোলন সহ বহু অান্দেলন সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী মহান ত্যাগী নেতা (মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী) মহাত্মা গান্ধী, হাজার বছরের শেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বহুদলীয় গণতন্ত্রের এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বিপ্লবী বাঘা যতীন— কার ছবি স্থান পায়নি সেখানে ? এই যুগের সংবাদপত্রের শীর্ষ সম্পাদকদের ছবিও রয়েছে এখানে।

টিনশেডের কাঠের এক বিশাল হলরুমে ১০ বাই ১২ সাইজের ফ্রেমে থরে থরে সাজানো ছবি। জগৎ বিখ্যাত রাজা-বাদশা, ভাস্কর, ভাষাসৈনিক, যোদ্ধা, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগীতশিল্পীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাদের অবদান রয়েছে— এমন ব্যক্তির সহস্রাধিক আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে জাহিদ হাসান রাজীব এর এই সংগ্রহশালায় ।

মেহেরপুর থেকে ঐতিহাসিক মুজিবনগর যাওয়ার পথে মোনাখালি ব্রিজ পার হয়ে কয়েকশ মিটার পর দারিয়াপুর বাজার। বাজারের প্রবেশ মুখে হাতের বামে চোখে পড়বে ফিরোজা বারি কমপ্লেক্স। এর ভিতরেই জাহিদ হাসান রাজীব গড়ে তুলেছেন তার এই অনন্য সংগ্রহশালা ছবিতলা।

ঢুকতেই চোখে পড়বে আলোকচিত্রে সুসজ্জিত একটি সুবিশাল প্রবেশদ্বার। ভিতরে ছায়াঘন পরিবেশে বিশাল বৃক্ষাদির সমাহারে গড়া ফিরোজা বারি কমপ্লেক্স। এর মধ্যেই কাঠের বেড়া আর টিনশেডের ছাওনি দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে শত শত নামি-দামি মনীষীর ছবি সংবলিত ছবির জাদুঘর ছবিতলা।

কীভাবে তার এ সংগ্রহের শুরু— এ প্রশ্নের জবাবে রাজীব হাসান বলেন, ‘আমার জন্মের আগেই দাদু মারা যাওয়ায় তাকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। ২০০৯ সালের দিকে আমার প্রোপিতামহের ট্রাংকের মধ্যে আমি দাদুর একটি ছবি পাই। ছবিটি সংরক্ষণ করে দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দেই। এর কিছুদিন পর দাদুর ছবির পাশে বাবা-চাচার ছবিগুলো পাশাপাশি টাঙ্গিয়ে দেই। এরপর যোগ করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি। বঙ্গ বন্ধুর ছবি রাখার পর বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি সংরক্ষণের ইচ্ছেটা প্রবল হয়ে ওঠে। সেই ইচ্ছা দিনে দিনে রূপ নেয় নেশায়। তারপর আর থেমে থাকা নয়। শুরু করি ছবি সংগ্রহের অভিযান। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ও ইন্টারনেট ঘেঁটে গত তিন বছরে এসব ছবি সংগ্রহ করেছি।’

আলাপচারিতায় জানা গেছে, স্থানীয় নটরাজ গ্রুপ থিয়েটারের সবাই রাজীব হাসানকে এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন। রাজীব নটরাজ গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি। দুই সহসধিক ছবি বাইন্ডিং করে টানানোর পাশাপাশি আরও তিন সহস্রাধিক ছবি তার সংগ্রহে আছে। ঘরে জায়গা সংকটের কারণে সেসব ছবি বাইন্ডিং করে রেখে দেওয়া হয়েছে টানানো সম্ভব হয়নি এখনো।

রাজীবের স্বপ্ন, ৬ একর জমির ওপর তিনি তার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ফিরোজা বারি কমপেক্স তৈরি করবেন। যা হবে আধুনিক জাদুঘর এবং ছবির শিক্ষালয়। যে জাদুঘরটি হবে বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ ছবির জাদুঘর। আর শিক্ষালয়ে থাকবে নতুন প্রজন্মের জন্য বিখ্যাত ব্যক্তির ছবির পাশাপাশি তাদের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রামাণ্য চিত্রসহ আলোকচিত্র।

আসুন আমরা এই মহান মানুষটির মহান র্কীর্তিগুলিকে দেখি, আমাদের ইতিহাসকে জানি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস কে পরিচয় করিয়ে দেয়ার এই মহান উদ্যোগকে সম্মান, সহযোগীতা এবং সমর্থন জানাই।

Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes