পাড় সংরক্ষণের অভাবে দ্রুতই ভরাট হয়ে যাচ্ছে মেহেরপুরের ভৈরব নদী

মেহেরপুর বাসির  দীর্ঘ  দিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মেহেরপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী ভৈরব নদী পুন:খনন করে মানুষের ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ হওয়ার স্বপ্ন পূরণের  জন্য মেহেরপুরবাসী  বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চীরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে। ফসলের ক্ষেতে সেচ সুবিধা বাড়ানো সহ আরো অনেক কারণে ভৈরব নদী খনন ছিল মেহেরপুর বাসীর প্রাণের দাবী । সেই ভৈরবনদী পুনখনন এখন আর স্বপ্ন নয় বরং বাস্তবতা । এই  ভৈরব নদী পুন:খননের কাজ শেষে আবার ফিরে পেয়েছে তার পানি প্রবাহ।  মানুষের শুধু আমিষের চাহিদায় পূরণ হচ্ছে না, ভূ-গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের পরিমান কমে যাচ্ছে। মানুষ ফিরে পাচ্ছে  সুপেয় পানি। ভৈরব পাড়ের জমি পাচ্ছে সেচ সুবিধা। স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার অংশ রসিকপুরে থেকে  শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা এই নদীর প্রবেশমুখ গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার ভৈরবনদী খননে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে নৌ বাহিণীর ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ার ওয়ার্কস লি: খনন কাজ করেছে।



মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার রসিকপুর থেকে ভৈরব নদ পুন:খননের কাজ শুরু হয় ২৩ এপ্রিল ২০১৫ সালে এবং গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া  এসে ৩০ এপ্রিল ২০১৭ তে  কাজ শেষ হয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভৈরব নদ পুন:খনন প্রকল্পের উদ্যোগে ৭০কোটি ৬৫ লাখ ৫১ হাজার ২১৬ টাকা ব্যয়ে  খনন কাজ সম্পন্ন হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খননের ফলে ভরাট হয়ে যাওয়া নদ পুনরুদ্ধার ও নদের পানি প্রবাহ ফিরে আসবে। এতে কয়েক হাজার কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। তারা আবার কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য পানি পাবেে ।



এসব কথা সবই এখন পুরনো । নতুন কথা হচ্ছে ভৈরব নদী  খনন শেষে নদীর দুই পাড় ভালভাবে না বাঁধানোর কারণে এবং কিছু অসাধু লোকের দ্বারা নদীর পাড় থেকে বালু ও মাটি সরিয়ে নেয়া এবং বিক্রি করার কারণে নদীর  পাড় অলগা হয়ে  এবং সংরক্ষণের অভাবে গত বর্ষায় মেহেরপুরের স্মরণকালের  দীর্ঘ স্থায়ী বর্ষা ঋতুতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায়  নদীর অনেক স্থানে পাড় ভেঙে পাড়ের মাটি নদীতে পড়ে নদী কোথাও কোথাও প্রায় অর্ধেক ভরাট হয়ে গেছে ।

উজলপুর/ফতেপুর ব্রিজে  দাঁড়িয়ে  দক্ষিণ/পশ্চিম দিকে তাকালে এই দ্শ্য চোখে পড়বে । একই দৃশ্য  আরও অনেক স্থানে গেলে দেখা যাবে।



এবছরেও আগাম বর্ষার আভাস পাওয়ার যাচ্ছে এবং প্রচুর ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে । এভাবে চলতে থাকলে বহু আকাক্ষিত ভৈরব নদীর পুণরায় ভরাট হতে মোটামুটি ২০ বছর লাগতে পারে।  কিন্তু আবার যদি ভরাট হয়ে যায় ভৈরব তাহলে কি আর এটি খনন করা সম্ভব হবে ,ক্ষমতার পালাবদলে  যদি বর্তমান সরকার এর ক্ষমতা চলে যায় তবে অন্য সরকার কি এই সরকারের দেখানো পথে চলবে । বাংলাদেশের রাজনীতির অতিত ইতিহাস কিন্তু এটা বলে না ।  কিন্তু প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে  নেয়,  নিয়মিত ড্রেজিং  এবং নদীর দুই পাড় সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয় তবে হয়ত নদীটি আবার দ্রুত ভরাট হওয়ার হাত থেকে বাঁচবে।

মেহেরপুর ভৈরব নদ পুন:খননের মাটি বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে খনন কাজের দায়ীত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নৌ বাহিণীর সহযোগি ডক ইয়ার্ড এণ্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কাস লিমিটেডের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ সকল মাটি দিয়ে কেউ কেউ তার নিজস্ব গর্ত বা ডোবা পূরণ করার কাজও করছেন। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দাবি খননকৃত নদে জমিতে মাটি সংকুলনা না হওয়ায় বিভিন্নজন তাদের চাহিদা মত মাটি নিয়ে গিয়ে তাদের জমির গর্ত বা ডোবা ভরাট করছেন।

Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes