মেহেরপুরের গর্ব স্বাধীনতার মহান ঘোষক জাতীয় নেতা এম এ হান্নান



আমাদের মেহেরপুরের গর্ব জনাব এম,এ,হান্নান বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তেহট্টে জন্মগ্রহণ করেন ১০ই ফেব্রুয়ারী ১৯৩০ সালে। তেহট্ট বর্তমান ভারতের অন্তর্গত হলেও একসময় অর্থাৎ ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বে এটি মেহেরপুর মহকুমার অন্তর্গত ছিল, সেই হিসাবে জন্মগতভাবেই মেহেরপুরের সন্তান, জাতীয় বীর, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, বেতারে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রপাঠ সহ বহু আন্দোলন সংগ্রামের প্রবাদপুরুষ এই মহান নেতা। তার পিতার নাম ছিল মাওলানা মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান,তিনি প্রথমে একজন কংগ্রেস সদস্য ছিলেন কিন্তু পরবর্তিতে মুসলিম লীগে যোগদান করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্ত হলে তিনি এবং তার পরিবার তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে চলে আসেন। এদেশে এসে তাঁর পবিবার তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার অন্তর্গত আমঝুপী নামক গ্রামে বসতি স্থাপন করেন,যাহা পূর্ব থেকেই নীলকুঠির জন্য বিখ্যাত ছিল। আমঝূপী থেকে তেহট্টের দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ২৭ কিলোমিটার,কিন্তু মাঝখানে রয়েছে আন্তর্জার্তিক সীমানা। মেহেরপুরে এসে তিনি দারিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশান পাশের মাধ্যমে তাঁর মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন, অতঃপর কুষ্টিয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক আই,এ, এবং ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে বি,এ,পাশ করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি বাহান্নর বাংলা ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রগন করেন। তিনি পরবর্তিতে চট্টগ্রামের সিটি কলেজে অধ্যয়ন করেন। তিনি চার্টার্ড ব্যাংক এবং আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীতে চাকুরী করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহন করেন। তিনি প্রথমে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের কার্য-নির্বাহী সম্পাদক এবং পরবর্তিতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চে পাকিস্তান আর্মি কর্তৃ্ক চট্টগ্রাম পোর্টে অস্ত্র খালাসের সময় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনিই প্রথম ব্যাক্তি যিনি বাঙ্গালী জাতীর প্রবাদপুরুষ, মহান নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের রুপকার, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বিকালে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি,পরবর্তিতে সভাপতি ও বাংলাদেশ রেল শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি কার দুর্ঘটনা আহত হন এবং পরের দিন অর্থাৎ ১৯৭৪ সালের ১২ই জুন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৪ বছর। মাত্র ৪৪ বছরেই ঝরে গিয়েছে একজন অমিত সম্ভাবনাময় তুখোড় নেতার জীবন। জাতি কিন্তু ভুলে যায়নি এই মহান নেতাকে। আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় দফা ক্ষমতাকালীন অর্থাৎ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম আন্তর্জার্তিক বিমান বন্দরের নাম এই মহান নেতার নামে এম,এ, হান্নান আন্তর্জার্তিক বিমানবন্দর করা হয়। কিন্তু পরবর্তিতে বি,এন,পি, সহ চার দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে এটির নাম পরিবর্তন করে শাহ্ আমানত আন্তর্জার্তিক বিমানবন্দর করা হয়। যতদিন বাংলোদেশ থাকবে,যতদিন বাঙ্গালী জাতী থাকবে,ততদিন এই মহান নেতার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা মেহেরপুর বাসীরা গর্বিত এই মহান নেতার কারনে।

Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes