মেহেরপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভেড়া পালন




মেহেরপুর: ব্লাক-বেঙ্গল গোটের পাশাপাশি মেহেরপুর জেলায় এখন বাণিজ্যিকভাবে ভেড়া পালন করা হচ্ছে। বেকারত্ব দূরীকরণের একটি অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ভেড়া পালন। জেলার প্রত্যন্ত জনপদের বেকার যুবক থেকে শুরু করে অনেক নারী-পুরুষ এখন ভেড়া পালন করে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। 
ছাগলের পাশাপাশি ভেড়া পালন মেহেরপুর জেলার জনগণের গরীবের গাভী পালন বলেও খ্যাতি আছে। বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় অনেকে বাণিজ্যিকভাবে ভেড়া পালন করছে। স্বল্প পূঁজি, স্বল্প জায়গা ও কম খাদ্য হলেই ভেড়া পালন করা সম্ভব। কম খরচের কারণে দিন দিন ভেড়া পালন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের ভেড়া পালনকারী ইসহাক আলী জানান, ভেড়া পালনে এলাকার লোকজনের অর্থনীতির চাকা যেমন ঘুরছে, তেমনি বেকারত্বের অভিশাপ থেকেও যুবকরা মুক্তি পাচ্ছে।

একই গ্রামের ভেড়া পালনকারী হান্নান আলী জানান, লেখাপড়া শিখেছি। এখন বাবা-মায়ের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা নিতে খারাপ লাগে। তাই ৩টি ভেড়া থেকে দুই বছরে ৪১টি ভেড়ায় দাঁড়িয়েছে। ভেড়ার বাচ্চা বিক্রি করেই আমার হাত খরচ হয়ে যায়। আমার মতো অনেকেই বাড়িতে বসে দু’একটা ভেড়া পালন করছে। আবার অনেকেই খামার গড়ে তুলে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

মুজিবনগর উপজেলার ভেড়া খামারী ভবের পাড়ার রাসেল আহমেদ বলেন, অল্প টাকা বিনিয়োগ করে ও স্বল্প স্থানে অনায়াসে এ প্রাণী পালন সম্ভব। আমার খামারে এখন ৩৫টি ভেড়া রয়েছে। যার দাম প্রায় ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মাংস সুস্বাদু ও চামড়ার দাম ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে প্রচুর। এটি বাজারজাত করতেও কোনো সমস্যা হয় না। কারণ ফড়িয়ারা এসে গ্রাম থেকে ভেড়া কিনে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ভেড়ার দাম প্রায় ছাগলের মতো। কেজি প্রতি মাংস বিক্রি হয় ৪০০ টাকা করে। বছরে দুইবার ৩/৪টি করে বাচ্চা দেয় ভেড়া।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শশাঙ্ক কুমার মন্ডল জানান, ভেড়া পালনে আগ্রহীদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। অনেকে ভেড়া পালনে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় ৭৭টি ভেড়ার খামার আছে। এছাড়া খামার করে এবং পারিবারিকভাবে দু’ একটি করে পালন করা হচ্ছে, এতে জেলায় প্রায় ৪২ হাজার ভেড়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র - newsbdd


Share this:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Copyright © মেহেরপুর ২৪. Designed by OddThemes